About Qadamia Tariqa


ক্বদমীয়া তরীকা বাংলাদেশের মাটিতে নাযিলকৃত হযরতে পাক-পাঞ্জাতনের নিস্‌বতের একমাত্র তরীকা। তেরশত হিজরী সালের জমাদিউল আউয়াল মাসের ৯ তারিখ হতে ৯ই জমাদিউস সানী বুধবার রাতের মধ্যে আল্লাহ্ তা’আলা রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের উসিলায় মাহ্‌বুবে রহ্‌মানী হযরত সৈয়দ আমজাদ আলী শাহ্ (রহঃ) সাহেবের উপর ক্বদমীয়া তরীকা বখশীশ করেন। তিনি কলকাতা মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ও হযরত হাফেজ মাওলানা শাহ্‌ সূফী ফতেহ্‌‌ আলী ওয়ায়েসী (রহঃ) সাহেব এর খলীফা ছিলেন। এই তরীকার ফায়েজ হযরতে পাক-পাঞ্জাতনের বরযখের উসিলায় হযরত রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম এর ক্বদম মুবারকের নীচে অর্থাৎ মশরবে মুহাম্মদী হতে আসে বলে আল্লাহ্ তা’আলা এর নাম “ক্বদমীয়া” রেখেছেন। হযরতে পাক-পাঞ্জাতনের এই নিস্‌বত অন্য সকল নিস্‌বত হতে শ্রেষ্ঠ।

শাহে ক্বদমীয়া তরীকার দরুদ শরীফ


اللهم صل على نورك و على آله و على قدمه و سلم
“আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা নূরীকা ওয়া আলা আলিহী ওয়া আলা ক্বাদামিহী ওয়া সাল্লিম”
অর্থ: হে আল্লাহ্‌! আপনার অনুগ্রহ ও শান্তিধারা বর্ষন করুন আপনার নূরের উপর ও তাঁর বংশধরগণের উপর ও তাঁর ক্বদম মুবারকের উপর।

শাহে ক্বদমীয়া তরীকার সিলসিলা


১) মাহ্‌বুবে রহ্‌মানী হযরত সৈয়দ আমজাদ আলী শাহ্ আল হাসানী আল ক্বদমী (রহঃ), ইমাম সাহেব। ওফাত দিবস: ২রা শাবান, ১৩৩০ হিজরী।
২) হযরত সৈয়দ আবু মুহাম্মদ আজমল আলী শাহ্‌ আল হাসানী আল ক্বদমী (রহঃ), বড় সাহেব। ওফাত দিবস: ১৭ই সফর, ১৩৩৮ হিজরী।
৩) হযরত সৈয়দ আবুল হাসান আহসান আলী শাহ্ আল হাসানী আল ক্বদমী (রহঃ), মেঝলা সাহেব। ওফাত দিবস: ৯ই জিলহজ্ব, ১৩৬১ হিজরী।
৪) হযরত আখতার হুসাইন মুহাম্মদ আবদুল মুনীম আনসারী আল ক্বদমী (রহঃ), জালালপুরের সাহেব। ওফাত দিবস: ১০ জমাদিউল আউয়াল, ১৪১০ হিজরী।
৫) হাবীবে রহ্‌মানী হযরত শায়েখ আলাউদ্দীন খান আল ক্বদমী (রহঃ), সাহেব কেবলা। ওফাত দিবস: ৯ই জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী।

শায়েখ আলাউদ্দীন খান আল ক্বদমী (রহঃ), সাহেব কেবলা


হাবীবে রহ্‌মানী শায়েখ আলাউদ্দীন খান আল ক্বদমী (রহঃ), বাংলাদেশের মাটিতে হযরতে পাক-পাঞ্জাতনের নিস্‌বতে নাযিলকৃত একমাত্র ত্বরিকা "ক্বদমিয়া ত্বরিকার" কামিল-মুকাম্মিল বিলায়েতপ্ৰাপ্ত শায়েখ। তিনি যামানার গাউস ও কুতুব, বিলায়েতপ্রাপ্তদের দীক্ষাগুরু এবং মহান মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি সাহেবে বিলায়েত মহাত্মা মরহুম আবদুল মুনীম আনসারী (রহঃ) সাহেব এর খলীফা হিসেবে মনোনীত ছিলেন। বর্তমান সহজলভ্য, সস্তা জ্ঞানচর্চার যুগে পথনির্দেশক আধ্যাত্মিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞাসম্পন্ন বইয়ের মহাদুর্ভিক্ষের দিনে সাহেব কেবলা তাঁর আলোকিত অন্তর ও সিদ্ধ আধ্যাত্মিক হস্তের দ্বারা কয়েকটি বিরল গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি তাঁর লেখনির দ্বারা তাওহীদ, নবুয়ত ও রিসালাতের অনুসরণের অফুরন্ত সৌভাগ্যের ও কল্যাণের দলিল এবং আল্লাহ্‌পাকের মা’রিফাত ও দীদার লাভের উপায় ও পথ স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি ঈমান ও কুফরের পার্থক্য তুলে ধরে আল্লাহ্‌ তা’আলার অবিভাজ্য সার্বভৌমত্ব এবং বিলায়েতের সঠিক স্বরূপ প্রকাশ করেছেন। জ্ঞানপিপাসু, সত্যানুসন্ধানী, আল্লাহ্‌ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম প্রেমিকদের অন্তর আলোকিত করতে, মা’রিফাতের পরিষ্কার পথনকশা ও ফায়েযপ্রাপ্তির লক্ষ্যে তাঁর এ ক’খানা গ্রন্থই যথেষ্ট।

Books


শায়েখ আলাউদ্দীন খান আল ক্বদমী (রহঃ), সাহেব কেবলা রচিত কিতাবসমূহ

শাহে ক্বদমীয়া তরীকার ইমাম সাহেবের জীবনী


Quote

  • “ইসলাম শুধু ভাববাদ নয়, ভাববাদ ও কর্মবাদের মিশ্রণ। ঈমানের কিছু অংশ ভাববাদ হলেও ইসলাম মূলত কর্মবাদ। মনে মনে অবিরত যিকির, নাফ্‌সের বিপরীত চলা, আল্লাহ্ তা’আলার প্রশংসা ও চিন্তায় বিভোর থাকার নাম আল্লাহ্‌-প্রেম। নির্জনে আল্লাহ্ আল্লাহ্ যিকিরে মত্ত হয়ে খোদার একজন দাসরূপে তাঁর ফরয, সুন্নত ও ওয়াযিব পালন এবং নিষিদ্ধ কাজ পরহেয, দুনিয়া ও আখিরাতের কামনা বাসনা হতে নির্লিপ্ত ও আসক্তিহীন হয়ে জীবন যাপন করার নাম তরীকত।”

    — শায়েখ আলাউদ্দীন খান আল ক্বদমী (রহঃ), কিতাব: মা’রিফাত ও দীদার-এ-ইলাহী, পৃষ্ঠা: ১৭৮
  • “প্রবৃত্তি বা নাফ্‌সকে আল্লাহ্ তা’আলা এমন ভাবে সৃষ্টি করেছেন যে একে সংশোধিত করা না হলে, পার্থিব স্বার্থ না দেখলে সৎকাজ, ইবাদত ও পরিশ্রম হতে পালিয়ে বেড়ায় এবং অসৎ কাজের দিকে আগ্রাহান্বিত থাকে। আল্লাহ্ তা’আলা চান যে, বান্দা প্রবৃত্তির এ স্বভাব দূর করে তাঁর আনুগত্য করুক, সৎকাজে ও তাঁর ইবাদতে নিমগ্ন থাকুক। যাতে বান্দাকে তিনি দয়া দেখাতে পারেন, পুরষ্কার দিতে পারেন ও ভালবাসতে পারেন।”

    — শায়েখ আলাউদ্দীন খান আল ক্বদমী (রহঃ), কিতাব: মা’রিফাত ও দীদার-এ-ইলাহী, পৃষ্ঠা: ৬২
  • “আহকামে ইলাহী ফিকাহ্‌ ছাড়া বোঝা যায় না। আবার ফিকাহ্‌ তাসাওউফ ও তরীকত ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না। ফিকাহ্‌, তাসাওউফ ও তরীকত ছাড়া ঈমান পরিপূর্ণ হতে পারে না। ইল্‌মে ফিকাহ্‌র ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) শরীয়ত, তাসাওউফ এবং তরীকত দ্বারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম এর জাহের ও বাতেন সহ পরিপূর্ণ অনুসরণ করে প্রমাণ করে গেছেন যে, শরীয়ত, তাসাওউফ ও তরীকত ছাড়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ সম্পূর্ণ হয় না।”

    — শায়েখ আলাউদ্দীন খান আল ক্বদমী (রহঃ), কিতাব: মা’রিফাত ও দীদার-এ-ইলাহী, পৃষ্ঠা: ৫০
  • “সৰ্বক্ষণ ক্বল্‌বী যিকির করলে প্রয়োজনীয় রিযিকের ব্যাপারে সফলতা আসে। তার তকদীরে যা আছে, বিনা পেরেশানিতে পাবে এবং তাতে বরকত আসবে। যারা যিকিরের ব্যাপারে উদাসীন থাকে, তারা পেরেশানির সাথে রিযিক পায়, বরকত পায় না। নিজের ও পরিজনদের অসুখ-বিসুখে সব খরচ হয়ে যায়।”

    — শায়েখ আলাউদ্দীন খান আল ক্বদমী (রহঃ), কিতাব: খোশ আমদেদ ইমাম মাহ্‌দী (আঃ), পৃষ্ঠা: ২২৪
  • “যে লোকে আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের দ্বারা সম্মান লাভের আশা করে, সে ব্যক্তি অপদস্থ হবে। ঈমানদার লোকের অপদস্থ ও হেয় হওয়ার কারণ এখানেই নিহিত, যদি এর দ্বারা ভুল বুঝে সংশোধিত হয়। ধন, বংশ, লোকবল, বিদ্যা-বুদ্ধির গর্বে সম্মান এসেছে মনে করলে এরূপ হবে। আল্লাহ্ তা’আলা জানাচ্ছেন- ‘যে যতবেশি পরহেযগার, আল্লাহ্‌র নিকট সে ততবেশি সম্মানিত।’ যে লোকের নিকট সম্মান চায়, সে তো মুশরিক।”

    — শায়েখ আলাউদ্দীন খান আল ক্বদমী (রহঃ), কিতাব: মা’রিফাত ও দীদার-এ-ইলাহী, পৃষ্ঠা: ১১০
  • “আল্লাহ্ তা’আলার ইচ্ছা বা ইরাদা হলো বান্দা তওবাহ্‌ করুক, দু’আ করুক, ঈমান মযবুত করুক, নিজে সংশোধন হোক, অন্যকে সংশোধন করার জন্য দ্বীন প্রচার করুক। দয়ালু আল্লাহ্‌র ইচ্ছা- তিনি দয়া দেখাবেন, মানুষ তাঁর দয়া পাওয়ার শর্তসমূহ মানুক, পালন করুক। এই হলো আল্লাহ্‌র ইরাদা। গযবের শর্ত পালন করে দয়া চাইলে কি ফল হবে!”

    — শায়েখ আলাউদ্দীন খান আল ক্বদমী (রহঃ), কিতাব: মা’রিফাত ও দীদার-এ-ইলাহী, পৃষ্ঠা: ২৮৫
  • “ক্বদ্‌মীয়া তরীকায় কঠোরভাবে শরীয়ত পালন করা হয়। শরীয়ত, হাকীকত ও মা’রিফাত এখানে একাকার, যেমন এ পুস্তকে দেখেছেন। সাহাবীগণ ও আহ্‌লে বাইতকে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম এর সাথে সাথে মহব্বত ও আনুগত্য করা হয়। ইমাম আবূ হানীফা (র.)-এর ফিকহ্‌ আকবরের অনুসরণ করা হয়।”

    — শায়েখ আলাউদ্দীন খান আল ক্বদমী (রহঃ), কিতাব: খোশ আমদেদ ইমাম মাহ্‌দী (আঃ), পৃষ্ঠা: ২৪৬